সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

ভাকুর্তা,মোগড়াকান্দা ও মধুমতিতে টায়ার পুড়ার একাধিক বিষাক্ত কারখানা গড়ে উঠেছে।

স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল খালেক সালমান
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০
  • ১১৩৭ বার পড়া হয়েছে /

সাভার উপজেলা ভাকুর্তা ইউনিয়নের ভাকুর্তা বাজার এর পাশে, মোগড়াকান্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সড়ক সংলগ্ন ও বিলামালিয়া মধুমতি মডেল টাউনে পাইরোলাইসিস রিসাইক্লিং অয়েল ম্যানুফ্যাকচারিং পরিত্যক্ত গাড়ীর টায়ার পোড়ার একাধিক বিষাক্ত অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেছে। মোগড়াকান্দা ও ভাকুর্তা এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত হচ্ছে বায়ুদূষণ। কারখানাগুলোতে গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি তেল তৈরি করা হয়। অবৈধভাবে টায়ার পোড়ানোর কারখানা থেকে বিষাক্ত কালো ধূয়া ঢাকা শহর, সাভার কেরানীগঞ্জ মোগড়াকান্দা ও ভাকুর্তা ইউনিয়নে প্রতিটি এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে কার্বন মনো-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ও মিথেন সহ ১৬ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস। তারমধ্য মিথেন ৩৩.২ শতাংশ, হাইড্রোজেন ১৫.৬ শতাংশ, নাইট্রোজেন ১২.২ শতাংশ ও কার্বন মনোক্সাইড ৪ শতাংশ। যা বাতাশের সঙ্গে মিশে ফুসফুসে প্রবেশ করে,ক্যান্সার সহ শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত নানা জটিল ও কঠিন রোগ সৃষ্টি করছে। যেমন- কিডনি ড্যামেজ, উচ্চরক্তচাপ,হার্টের সমস্যা, সেক্স ড্যামেজ, হাড়ের ব্যাথা, চর্মরোগ, জ্বর, ঠাণ্ডা -কাশি ইত্যাদি রোগ। দিনের বেলা ও রাতের বেলা এই বিষাক্ত কালো ধূয়ার কারখানাগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার কারণে এই ধূয়া গর্ভবতী মায়েদের ও শিশু বাচ্চাদের দেহের ভেতর প্রবেশ করে টনসিল রোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

মোগড়াকান্দা ও ভাকুর্তা এলাকার কারখানা গুলো দীর্ঘ ৮-১০ বছর নিয়মিত চালু থাকার কারণে এই এলাকাগুলোতে অকাল মৃত্যু হয়েছে অনেকের।
যেহেতু সারাবিশ্বে মহামারি করোনা ভাইরাস এর প্রধান লক্ষণ শ্বাসকষ্ট,ফুসফুস রোগ,জ্বর,হাঁচিও কাশি আর প্রতিটি ভাইরাসজনিত রোগই বায়ু দূষণের কারণে হয়ে থাকে। পরিত্যক্ত গাড়ির টায়ার পোড়ার কারখানা থেকে বিষাক্ত কালো ধূয়া বের হয়ে বায়ুদূষণ এর ফলে যে রোগগুলো হয়ে থাকে, করোনাভাইরাস লক্ষণ এর সাথে তা অনেকাংশই মিল আছে। মোগড়াকান্দা ও ভাকুর্তা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
এর আগে বহুবার অবৈধ কারখানা অপসারণ নিয়ে নিউজ করা হলেও কারখানা গুলো এখনোও বন্ধ করেনি কারখানার মালিকরা। কারখানার মালিকেরা শক্তিশালী হওয়াতে এলাকার সাধারণ জনগণ মুখ খুলতে সাহস পায়না। কারখানার মালিকরা এলাকার মানুষকে মামলা দিয়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে রাখে।

সরেজমিন এ তদন্ত করে দেখা গেছে যে এই অবৈধ কারখানার গুলোর পরিবেশ অধিদপ্তর এর কোন অনুমোদন নাই।
পাইরোলাইসিস রিসাইক্লিং অয়েল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন, প্রোমা এর তথ্যমতে সারাদেশে এমন প্ল্যান্ট আছে মাত্র ৫০ টি। তার মধ্যে সাভার, কেরানীগঞ্জ সহ ঢাকাতেই আছে ৩০ টি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে,ছাড়পত্র আছে মাত্র ২১ টি কারখানার।
মোগড়াকান্দা ও ভাকুর্তা এলাকার স্থানীয়
লোকজন বলেন,পরিবেশ অধিদপ্তর এর অনুমোদন থাকুক বা নাই থাকুক এইরকম একটা মানুষ মারার বিষাক্ত কালো ধূয়ার কারখানা মালিকরা মোগড়াকান্দা গ্রামের মাঝখানে চালায় কিভাবে..? মোগড়াকান্দা কারখানাটির সংলগ্ন অনেক বাড়িঘর,স্কুল,গ্যারেজ,দোকান,
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তারা দুনিয়াতে আর কোনো ব্যবসা কি খুঁজে পায়না.? তাই বলে মানুষ মারার ব্যবসা করতে হবে তাদের। প্রকৃতপক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তর এর অনুমোদন না থাকলেও এলাকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র ছায়ায় বিষাক্ত কালো ধূয়ার কারখানার গুলো চলে। তা না হলে,বার বার বন্ধ করে দেওয়ার পরেও কিভাবে সাহস পায় এই পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ কারখানা গুলো চালু করতে।

এবছরের শুরুতেই পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রকৌশলী কাজী তামজীদ আহমেদ, পরিবেশ দূষণ বিরোধী এক অভিযানে রাজধানী আমিন বাজারের পাশে পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন ৬ টি অবৈধ পাইরোলাইসিস কারখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ভাকুর্তা ও মোগড়াকান্দা বাসী উদ্বর্তন কতৃপক্ষ এর কাছে ন্যায়বিচার এর স্বার্থে অভিযোগ করে বলেন…এই অবৈধ কারখানাগুলোর বিষাক্ত কালো ধূয়া একদিকে আমাদের স্বাস্থ্যর চরম ক্ষতি করছে,অন্যদিকে আমাদের কৃষি জমির সমস্ত ফসল- শাকসবজি ও গাছের সমস্ত ফল ফলাদি নষ্ট করছে। যা পরিবেশ এর জন্য মারাক্তক হুমকিস্বরুপ।
তাই পরিবেশ অধিদপ্তর এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে আমাদের পার্থনা অতিসত্বর মোগড়াকান্দা ও ভাকুর্তা এলাকার অবৈধ কারখানা গুলো অভিযান চালিয়ে ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করুন। এলাকার মানুষকে মরণের হাত থেকে রক্ষা করোন। বায়ু দূষণের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমরা সুন্দর,নির্মল
প্রকৃতির পরিবেশের মধ্যে বাঁচতে চাই।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD