পৃথিবী থেকে ৬৮ লাখ মাইল দূরে একটি গ্রহাণু পিণ্ডে শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে ছুটে গিয়ে সফলভাবে আঘাত হেনেছে নাসার ডার্ট মহাকাশযান। ডার্টের আঘাতে ওই গ্রহাণুটি কয়েক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত ধ্বংসস্তূপ মহাকাশে ছড়িয়ে দিয়েছে।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, চিলির একটি টেলিস্কোপ দৈত্যাকার ওই গ্রহাণুর পেছন দিকে ধূমকেতু সদৃশ উদগীরণের চমকপ্রদ একটি ছবি ধারণ করেছে। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা কোনো গ্রহাণু হুমকি তৈরি করলে ধাক্কা মেরে এর গতিপথ বদলে দেওয়া যায় কি না; তা পরীক্ষা করে দেখতে গত সপ্তাহে নাসার মহাকাশযান ওই গ্রহাণুর ওপর আছড়ে পড়েছিলো। মোটামুটি ১৬০ মিটার চওড়া ওই গ্রহাণুর নাম দেওয়া হয়েছে ডাইমরফোস। ১০ মাস আগে পৃথিবী থেকে রওনা দেওয়া নাসার ডার্ট মহাকাশযান গত ২৬ সেপ্টেম্বর সফলভাবে ওই গ্রহাণুর গায়ে আঘাত হানে ও ধ্বংস হয়ে যায়।এর ফলে গ্রহাণুটির গতিপথ বদলেছে কি না, বিজ্ঞানীরা এখন তা-ই খতিয়ে দেখছেন। তারই অংশ হিসেবে চিলির জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সাউদার্ন অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল রিসার্চ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ডার্ট আছড়ে পড়ার দুইদিন পর ব্যাপক দীর্ঘ ধ্বংসস্তূপের ওই অনন্যসাধারণ ছবিটি ধারণ করেন। এই ধ্বংসস্তূপ এখনই লম্বা ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি; নির্গত হওয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য আরও বড় হবে বলেই মনে হচ্ছে। মহাকাশের অন্যান্য জঞ্জালও এর আশপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে বলে ছবিতে মনে হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের যাত্রাপথ আসছে সপ্তাহ ও মাসগুলোতে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির মাইকেল নাইট।সাড়ে ৩২ কোটি ডলারের এই মিশনে ২০২১ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স ঘাঁটি থেকে ডার্ট মহাকাশযানটি নিয়ে মহাকাশের দিকে রওনা হয় স্পেসএক্সের ফ্যালকন-নাইন রকেট। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ডার্ট, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ কাটিয়ে সূর্যের চারদিকে নিজ কক্ষপথে ঘুরতে শুরু করে। সেই যাত্রাপথেই ২৬ সেপ্টেম্বর ডাইমরফোসের সাথে এর সংঘর্ষ হয়। আর পুরো পরীক্ষাটি ছিল একটি রোবোটিক সুইসাইড মিশনের মতো।
পরিচালনা পরিষদঃ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আরিফুল ইসলাম সাব্বির নির্বাহী সম্পাদক: রেদোয়ান হাসান বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ রফিক কমপ্লেক্স (২য় তলা), ৬৪/১, শিমুলতলা, সিআরপি রোড, সাভার, ঢাকা-১৩৪০ ফোন: ০১৫৭৬৪৬২৭০১ ই-মেইল: ajkerpost.news@gmail.com
Copyright © 2026 Ajkerpost. All rights reserved.