বরিশালে ৪ ও ৫ নভেম্বর সড়কপথে চার চাকা ও তিন চাকার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে এটি গত ৩০ অক্টোবর ভিন্ন ভিন্ন মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো। আর গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, লঞ্চ ও স্পিডবোডও উল্লেখিত দুই দিন চলবে না। তারা নানা দাবি দাওয়ার কারণেই এই দুইদিন ধর্মঘট ডেকেছেন। সেই কারণেই সড়ক-নৌপথে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ। এতে চরম ভোগান্তি পড়েছেন জনসাধারণ। তবে যান চলাচল বন্ধের বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে ইচ্ছা করেই করা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে বলে দাবি করছে বিএনপি।বিএনপি বলছে, বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের একদিন আগে ইচ্ছে করে সমাবেশ বানচাল করার উদ্দেশে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ বাস, তিন চাকার সব ধরনের যানবাহন ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।আজ শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া ভিন্ন মালিক সংগঠনের এই ধর্মঘট চলবে বিএনপির সমাবেশের দিন আগামীকাল শনিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।উল্লেখ্য, ধর্মঘটের কারণে বরিশাল থেকে কোনো রুটে বাস ছাড়ছে না। বাস ছাড়াও ভোলা থেকে বরিশাল রুটে স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচলও বন্ধ থাকায় সারাদেশের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বরিশালের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
আজ শুক্রবার সকাল ছয়টার পর বরিশাল থেকে কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বাস না পেয়ে অনেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। পরিবহন বন্ধ থাকায় মালামাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। বিকল্প উপায়ে কেউ ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে গেলেও তাতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।সকালে বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখা যায়, বাসের টিকিট কাউন্টারগুলো বন্ধ। স্ট্যান্ডে সব বাস সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। মহাসড়কে চলছে ভ্যান, কিছু সংখ্যক অটো রিকশা, রিকশা। আর এগুলোতে নির্ভর করেই গন্তব্যে যাচ্ছে মানুষ।দেওয়ান মোহন নামের এক যাত্রী বলেন, রাজনৈতিক কারণে বাস বন্ধ রাখা কোনও যুক্তিতে পড়ে না। আমাদের ভোগান্তিতে ফেলে তারা তাদের স্বার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আরেক যাত্রী মানিক হোসেন বলেন, আমি মাদারীপুরে যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। জানতাম বাস বন্ধ থাকবে, তার পরও বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিন চাকার সব যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।এদিকে বাস লঞ্চ বন্ধ থাকলেও গণসমাবেশে যোগ দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) বিকেল থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। যত ভোগান্তি হোক না কেন সমাবেশ সফল করতে নেতাকর্মীরা সময় মতো মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।এদিকে শনিবার বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জেলা বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ হবে। সমাবেশের আগের দিন বাস বন্ধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। পরিবহন বন্ধের জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, গণসমাবেশে যেন মানুষ আসতে না পারে, সেজন্য সরকার এমন কাজ করেছে। তবে সরকার সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে সরকারের কোনও হাত নেই।বাস বন্ধের বিষয়টি জানার পরও যাদের খুবই জরুরি কাজ ছিল, তাদের অনেককে বরিশাল বাস টার্মিনালে আসতে দেখা যায়।এদিকে বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকেই দলটির অনেক নেতাকর্মী বরিশালে এসেছেন। সময় বাড়ার সাথে সাথে নেতাকর্মীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে সমাবেশস্থলে। গতরাতে প্যান্ডেল টানিয়ে সমাবেশস্থলে আড্ডা, হই-হুল্লোড় করেন তারা।নেতাকর্মীরা বলছেন, সমাবেশ যেন সফল না হয়, সেজন্য শুক্রবার থেকে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আগেভাগেই তারা সমাবেশস্থলে চলে এসেছেন। সমাবেশের আগের দুই রাত এখানেই কাটাবেন তারা।মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হায়দার বাবুল বলেন, রাতে উদ্যানেই ঘুমান দূর থেকে আসা নেতাকর্মীরা। কারণ আবাসিক হোটেলগুলোতে পুলিশ অভিযানের নামে তাদের হয়রানি করতে পারে।তিনি বলেন, ‘সব ধরনের পরিবহন বন্ধ করে দিয়ে সরকার আমাদের সমাবেশ ঠেকাতে চাইছে। তবে তাদের কোনো উদ্যোগই সফল হবে না। জনগণের জন্য আন্দোলনে সব বাধা অতিক্রম করে দুই দিন আগেই সমাবেশস্থলে হাজির হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। এখানেই থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে ত্রিপল টানিয়ে।গত ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে কর্মসূচির দিন ধর্মঘট ডাকা না হলেও বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে বাধা দেন। এরপর খুলনায়ও ২২ অক্টোবর কর্মসূচির দুই দিন আগে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল।পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সমাবেশমুখী লোকজনকে ঠেকাতে কিছু জায়গায় বাধা ও হামলার অভিযোগ ছিল। এছাড়া গত ২৯ অক্টোবর রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করেও দুই দিন বন্ধ ছিল বাস।
পরিচালনা পরিষদঃ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আরিফুল ইসলাম সাব্বির নির্বাহী সম্পাদক: রেদোয়ান হাসান বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ রফিক কমপ্লেক্স (২য় তলা), ৬৪/১, শিমুলতলা, সিআরপি রোড, সাভার, ঢাকা-১৩৪০ ফোন: ০১৫৭৬৪৬২৭০১ ই-মেইল: ajkerpost.news@gmail.com
Copyright © 2026 Ajkerpost. All rights reserved.