ফরজ নামাজের ন্যায় সুন্নত নামাজের ওপরো মহান রাব্বুল আলামিন গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সুন্নত নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন কারো ফরজ নামাজে ঘাটতি থাকলে, এ নামাজ দ্বারা আল্লাহ তায়ালা সেই ঘাটতি পূরণ করবেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সবার আগে যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে, তা হল নামাজ। নামাজ ঠিক হলে সে পরিত্রাণ ও সফলতা লাভ করবে। নইলে (নামাজ ঠিক না হলে) ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।প্রতিদিন ফরজের আগে ও পরের সুন্নতগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় আদায় করতেন, কখনও কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া তা আদায় করা থেকে বিরত থাকতেন না এবং সাহাবায়ে কেরামকে আদায়ের নির্দেশ দিতেন। সুন্নত নামাজ ফরজ নামাজেরই মতো নিয়ত করে সুরা কেরাত মিলিয়ে পড়তে হয়।তবে পার্থক্য হলো ফরজ নামাজ চার রাকাত বিশিষ্ট হলে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে সুরা ফাতিহার সাথে সূরা মিলানো ওয়াজিব নয় কিন্তু সুন্নত নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। তাই-যদি কেউ কখনো ভুল বশত সুন্নতের কোনো রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য কোনো সূরা মিলাতে ভুলে যায় তাহলে তার নামাজ হবে কিনা - এ নিয়ে অনেকে সন্দেহে পড়ে যান।এ বিষয়ে ইসলামী আইন ও ফেকাহ শাস্ত্রবিদদের মতামত হলো, ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে এবং সুন্নত ও নফলের সকল রাকাতে সূরা ফাতেহার পর অন্য কোনো সূরা মিলানো ওয়াজিব। নিয়ম হচ্ছে, কেউ যদি ভুলে নামাজের কোনো ওয়াজিব ছেড়ে দেয় তাহলে তার ওপর সিজদায়ে সাহু আবশ্যক।সুতরাং সুন্নত নামাজে সূরা ফাতেহার পর অন্য সূরা মিলাতে ভুলে গেলে সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে নামাজ পূর্ণ হয়ে যাবে। তবে কোনো কারণ ছাড়াই সিজদায়ে সাহু ছেড়ে দিলে ওয়াক্তের মধ্যে নামাজটি পুনরায় পড়া আবশ্যক, অন্যথায় গোনাহগার হবে।—(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ১০৩৮; মারাকিউল ফালাহ: ২৪৮; মারাকিউল ফালাহ (হাশীয়াতুত তাহতাবীসহ): ২৪৭—২৪৮; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৭৮; আল—মুহীতুল বুরহানী: ২/৩০৯; আলবাহরুর রায়েক: ১/৫১০, ৫১৬)
পরিচালনা পরিষদঃ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আরিফুল ইসলাম সাব্বির নির্বাহী সম্পাদক: রেদোয়ান হাসান বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ রফিক কমপ্লেক্স (২য় তলা), ৬৪/১, শিমুলতলা, সিআরপি রোড, সাভার, ঢাকা-১৩৪০ ফোন: ০১৫৭৬৪৬২৭০১ ই-মেইল: ajkerpost.news@gmail.com
Copyright © 2026 Ajkerpost. All rights reserved.