রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

সাভারে ভূমিদস্যু স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার হামলা, মৃত্যুর সাথে লড়ছেন ব্যবসায়ী

সাভার প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে /

সাভারে জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতার জেরে এক ফার্মেসী ব্যবসায়ী ও তার ভাইয়ের উপর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফার্মেসীর মালিক হোসেন আলর(৪০) তিন দিন ধরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। ঘটনায় আহত আরেকজন সুস্থ আছেন বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত ভুক্তভোগীর ছোট ভাই মোকছেদ আলী গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।এর আগে ২৬ নভেম্বর রাত ১০টায় রাজফুলবাড়ীয়ার রামচন্দ্রপুর এলাকায় হামলার শিকার হন হোসেন আলী (৪০) ও তার ছোট ভাই খোরশেদ আলম (৩৮)। পরে রোববার ভুক্তভোগীদের বোন সাভার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু , তার সহযোগী আনোয়ার হোসেন, মো. আব্বাস বাদল, কামরুল, নাঈম, আনিস ও মুন্নাসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন। তারা সবাই সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রভাবশালী শফিকুল ইসলাম সাবু ও আনোয়ার হোসেনের সাথে আগে থেকে হোসেন আলীর পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হোসেন আলীদের প্রাননাশের হুমকি প্রদান করা হতো। এরই জেরে গত ২৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হোসেন ও তার ভাই খোরশেদ রিকশায় রাজফুলবাড়ীয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় রামচন্দ্রপুর এলাকায় পৌছলে অজ্ঞাত ১০-১২ সন্ত্রাসী তাদের পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিকশা থেকে তাদের টেনহিচড়ে নামিয়ে চাপাতি, রামদা, চাকু, লোহার রড, লোহার পাইপ দিয়ে উপুর্যপরি নির্মম ভাবে আঘাত করতে থাকে। এসময় শফিকুল ইসলাম সাবুর নির্দেশে দুই ভাইকে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরিকাঘাত করে সন্ত্রাসীরা। পরে তারা মাটিতে পরে গেলে শফিকুল লাঠি দিয়ে হোসেন আলীর মাথায় উপুর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরে তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। অবস্থার অবনতি হলে হোসেন আলীকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়।চিকিৎসাধীন হোসেনের ছোট ভাই মোকছেদ আলী বলেন, ‘হোসেন ভাইয়ের অবস্থা ভালো না। খুব খারাপ অবস্থা। আইসিইউতে তিন দিন ওনার জ্ঞান নাই। খুবই সিরিয়াস। তবে আমার আরেক ভাই মোর্শেদ সুস্থ আছে।’তিনি আরও বলেন,সাবু এলকাট কুখ্যাত সন্ত্রাসী। ওর বিরুদ্ধে ১০-১২টা জিডি এবং অনেকগুলো ভূমিদস্যুতার মামলা রয়েছে। ও প্রভাব খাটিয়ে মানুষ মারে, গ্যাঞ্জাম করে। মানুষের জায়গা দখল করে নিয়ে যায় কোন কাগজপত্র ছাড়াই।পূর্ব শত্রুতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ও (সাবু) আমার জ্যাঠার ২৬ শতাংশ জাগা কিনছে। পরে আবার ওই জায়গা আমার মামার কাছে বিক্রি কইরা ফালাইছে। সব মাপযোগ করে দেয়ার পরেও আবার নতুন করে ওই জায়গা দাবি করে। এটা নিয়া অনেক বিচার শালিশ হইছে। ওগো কোন দলিল নাই, কাগজ নাই। থানা পুলিশ কারও বিচার মানে ও।’অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু সমস্ত দায় এড়িয়ে বলেন, আমি শুনছি ওদের কে বা কারা মারছে? আমিতো ছিলাম না। আমার নামে অভিযোগ করছে কিভাবে? হোসেনের চাচাতো ভাইদের সাথে আমার একটা জমি না গ্যাঞ্জাম আছে। হোসেনের লগেতো আমার কোন বিরোধ নাই। তার সাথেতো অনেক লোকেরই গ্যাঞ্জাম। এখন কে বা কারা কি করছে আমিতো জানি না।’সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল বলেন, ‘তদন্তে জানতে পেরেছি আসামিপক্ষ ভিকটিমকে অনেক মারধর করছে। সে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছে। আরেকজন সুস্থ আছেন। আসলে জায়গা জমির বিষয় নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ভিকটিমদের অনেক মারধর করছে। এঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। পলাতক অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে। এঘটনায় মামলা নথিভুক্তের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।’ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টা আমার জানা নাই। আমাদের সংগঠনের কেউ যদি আইনগত বা সামাজিক ভাবে অপরাধী হয়ে থাকে। তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD