শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

পরীক্ষা না দিয়েও মেধা তালিকায় পঞ্চম!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে / ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট

কুমিল্লার দেবিদ্বারে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন এক শিক্ষার্থী! এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে তোলপাড় চলছে। উপজেলার ধামতী হাবিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, ধামতী হাবিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. হারুন-অর রশিদ চৌধুরীর ছেলে সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্র মো. রাকিব চৌধুরী বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। সপ্তম শ্রেণির ‘খ’ বিভাগে তার রোল নম্বর ছিল ১১।

বিদ্যালয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, পরীক্ষার সিটপ্ল্যানে তার নামে কোনো সিট বরাদ্দ ছিল না। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার হলে সরবরাহ করা উপস্থিতির তালিকায় স্বাক্ষরের ঘরেও রাকিবের কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। অথচ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও বাংলায় ৫২, ইংরেজিতে ৫১, গণিতে ৬৬, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় ৬২, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ে ৩৩, সাধারণ বিজ্ঞানে ৫০, কৃষি শিক্ষায় ৭৬, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষায় ৩২ সহ ৭৫০ নম্বরের মধ্যে তার প্রাপ্ত মোট নম্বর ৪২২। কিন্তু ১০ নম্বর বাড়িয়ে ৪৩২ নম্বর দেখিয়ে তাকে মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থানে উন্নীত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ফল ঘোষণার সময় ওই ছাত্রকে পঞ্চম স্থান অধিকার করার ঘোষণা দিলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করতে দেখা যায় এবং এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়।

অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা স্থানীয় ব্যক্তি ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসে বিষয়টি সমঝোতা করে ফেলেছি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষিকা ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. হারুন-অর রশিদ চৌধুরী ক্ষমা চেয়ে ‘ভবিষ্যতে আর এ জাতীয় কোনো কাজ করবেন না’ মর্মে লিখিত দিয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী আব্দুল ওয়াহেদ মো. সালেহ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজি চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তদন্ত করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD