বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:১০ অপরাহ্ন
আজ নিরাপদ খাদ্য দিবস

খাদ্য খাচ্ছি নাকি বিষ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে /

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার সমস্যা প্রতিনিয়ত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। খাদ্যে ভেজাল ভয়াবহ আকারে রূপ ধারণ করেছে। বিষমুক্ত খাদ্য পাওয়া এখন দুষ্কর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের প্রতিদিনকার বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপকরণ মেশাচ্ছে। এসব পণ্য কয়েক হাত ঘুরে আসে ভোক্তার হাতে। এগুলো খেয়ে মানুষ আক্রান্ত হয় নানা রকম জটিল ও কঠিন রোগে। ভেজাল খাদ্য খেয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হয় অনেকের। ভেজাল খাদ্যের এই সমাহারের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেশে ষষ্ঠবারের মতো পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস।এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘নিরাপদ খাদ্য, সমৃদ্ধ জাতি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চাবিকাঠি’। দিবসটি ঘিরে খাদ্য মন্ত্রণালয়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, খাদ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য চাল। এই চালে ভেজালের হার আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। রাসায়নিক পদার্থ মেশানো চাল যাচ্ছে সারাদেশে। চাল চিকন, ঝকঝকে ও দুর্গন্ধমুক্ত করার জন্য রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চাল খাওয়ার পর মানবদেহে জ্বালা-পোড়া, পাকস্থলীতে এসিডিটি এমনকি ক্যানসারও হতে পারে।অটোমিলের একটি সূত্র জানায়, চালের রং উজ্জ্বল সাদা ও ঝকঝকে করতে শুধু পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে হ্যাসকিং মিলগুলোতে সয়াবিন তেল ও ময়দা মিশিয়ে চাল ঝকঝকে করা হয়। দুইশো মণ চালে এক কেজি সয়াবিন তেল মেশানো হয়।জানা গেছে, মোটা বিআর ২৮ ধান কয়েক ছাঁট দিয়ে চিকন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম হাইড্রোক্লোরাইড, টুথপেস্ট ও এরারুট একত্রে পানিতে মিশিয়ে চালে দেওয়া হয়। চালে এই রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর জন্য হাসকিং মিলের মালিকরা নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো চাল বা খাবার গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, কেমিক্যাল মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য দীর্ঘদিন খাওয়ার ফলে মানবদেহে গ্যাস্টিক, লিভার নষ্ট, ক্যানসারসহ নানা রোগ হতে পারে। গর্ভবতী মহিলারা জন্ম দিতে পারে বিকলাঙ্গ শিশু। রাসায়নিক পদার্থ মেশানো চাল খেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা।গবেষকরা জানান, খাদ্যপণ্যে অনেক রকম বিষাক্ত উপাদান মেশানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল কেমিক্যাল ও টেক্সটাইল রং। এ ছাড়া ইউরিয়া, হাইড্রোজ, কার্বাইড, ফরমালিন ও প্যারাথিয়ন মেশানো হয় বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে। বেকারি কারখানায় উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য সতেজ রাখতে ফ্যাটি এসিড, টেক্সটাইল রং। তা ছাড়া এসব পণ্যে নিম্নমানের আটা, পচা ডালডা, তেল ও ডিমের ব্যবহার করা হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেক্সটাইল রং ও কেমিক্যাল খাদ্য বা পানীয়ের সঙ্গে মিশে মানব শরীরে প্রবেশের পর এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই যার ক্ষতি করে না।এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর আ ব ম ফারুক বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে লিভার, কিডনি, হৃৎপিণ্ড ও অস্থিমজ্জার। এসব অঙ্গ শিশু ও বৃদ্ধদের নষ্ট হয় দ্রুত। তরুণদের নষ্ট হয় কিছুটা দেরিতে। খাদ্যে ভেজালের কারণে শরীরে বিভিন্ন রকমের ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেইলিউর ও হাঁপানি বেড়ে যায়।পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের এক গবেষণা তথ্যে দেখা যায়, কেবল ভেজাল খাদ্যগ্রহণের কারণে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয় ১ লাখ ৫০ হাজার জন। কিডনি রোগে আক্রান্ত হয় ২ লাখের ওপর মানুষ। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD