বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

বাতাসে শুধুই পোড়া গন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে /

রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের ১০৪ নম্বর সড়কের ওই বাড়িটিতে গতকাল সন্ধ্যায়ও ছিল কত রকম প্রাণের স্পন্দন। বাসিন্দাদের আসা-যাওয়া, শিশুদের হইহুল্লোড়, আলোকিত বারান্দা আর ছাদ বাগান থেকে ফুলের সুবাস! সব কিছুই চলছিল ঠিকঠাক। অথচ এক রাতের মধ্যে পাল্টে গেছে সবকিছু। আজ সেই ভবনটিই জনশূন্য। চারদিকে হাহাকার। চারপাশ থেকে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে পোড়া গন্ধ। ১৪ তলা ভবনটির ১০ ও ১১ তলা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

১০৪ নম্বর সড়কের ২ নম্বর হোল্ডিংয়ের ১৪ তলা ভবনটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, এর কারণ এখনও জানায়নি ফায়ার সার্ভিস। সোমবার ( ২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সরেজমিনে ভবনটির সামনে গেলে দেখা যায় উৎসাহী জনতার ভিড়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটিতে কাউকেই প্রবেশ করা অনুমতি দিচ্ছেন না দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। ভবনে আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু মালামাল ভ্যান গাড়িতে করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে।

এদিকে বিকেল ৪টায় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন মেইনটেন্যান্স) এবং তদন্ত কমিটির প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের একটি প্রতিনিধি দল প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পুরো ভবন পরিদর্শন করেন। ক্ষয়ক্ষতিসহ বিভিন্ন বিষয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন তারা। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটির অগ্নিকাণ্ডের সুর্দিষ্টি কারণ এখনও জানা যায়নি। পাশাপাশি আরও অনেক বিষয় রয়েছে। অনেক ধরনের দাহ্য পদার্থ রয়েছে। আসলে কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সেটা এখনও নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। আমরা যেটি খুঁজে পেয়েছি তদন্তের স্বার্থে এখনই এসব প্রকাশ করা যাচ্ছে না। নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমাদের তদন্ত শেষে হলেই আমরা সঠিক তথ্যটি দিতে পারবো।

গুলশান-২ নম্বরে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ড (ছবি: ফোকাস বাংলা)
পুড়ে যাওয়া অংশ ঘুরে এসে ভবনের প্রকৌশলী মাহফুজুল হাসান বলেন, আমি পুরো ভবন ঘুরে দেখেছি। বিশেষ করে ১০ ও ১১ তলা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বেজেছে। সেটা শুনে যারা নিচের দিকে ছিলেন তারা নেমেছেন। আগুন লাগার পর প্রত্যেকেই যদি সিঁড়ি দিয়ে বের হয়ে যেতেন, তাহলে সবাই নিরাপদ হয়ে যেতে পারতেন। অনেক সময় ভুল অ্যালার্মও হয়। যারা বাসায় ছিলেন, তারা মনে করেছিলেন ভুল অ্যালার্ম হয়েছে। যখন তারা আগুন দেখেছেন এবং নিচ থেকে বলছিল আগুন লেগেছে, সবাই নেমে যান, তখন যারা পেরেছেন নেমে এসেছেন।

মাহফুজুল হাসানের দাবি, অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য সব ব্যবস্থাই ছিল। ভবনে অগ্নিনির্বাপন প্রশিক্ষণের একটি টিমও ছিল। তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নিয়েছে। প্রত্যেক বাসায় সচেতন করেছে।

তিনি জানান, পুরো ভবনটিতে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। প্রতি বাসায় সেখান থেকে সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। একটি বাসা থেকে প্রথমে অন্যান্য বাসায় ধোঁয়া যায়, আগুন কিন্তু যায়নি। ধোঁয়ার জন্যই বেশি সমস্যা হয়েছে। আর আগুন ওপরে দুই দিক থেকে বেশি হয়েছে।

রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের ১৪ তলা ভবনের ১১ তলায় আগুন লাগে। একপর্যায়ে আগুন ভবনের ১২ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনে আটকে পড়া  অন্তত চার জন লাফিয়ে পড়েন। লাফিয়ে পড়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকজন।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD