ঝালকাঠি জেলা কাঠালিয়া উপজেলা আওরাবুনিয়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) জাহিদুল ইসলামকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের দাবি প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে (জাহিদুল) শায়েস্তা করতে ইচ্ছাকৃতভাবে শোকজ করেছেন প্রধান শিক্ষক।
সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন,২০২২ সালে আওরাবুনিয়া মডেল হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) হিসেবেে যোগদান করি। যোগদানের পর থেকেই আমাদের প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রির নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করি। এরপর থেকে তিনি আমাকে নানান ভাবে হয়রানীর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এরপর ২০২২ সালে আমাদের স্কুলে মিনিস্ট্রি অডিট আসলে অডিট কর্মকর্তা সোহেল আহম্মেদের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা আদায় করছে। আমি সেই টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আমার উপর তিনি ক্ষিপ্ত হয়। সর্বশেষ তিনি আমাকে বলেন টাকা না দিলে এখানে চাকরি করতে পারবেন না। এর পর তিনি আমাকে মিথ্যা অহেতুক অভিযোগ এনে তিনটি বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ দেন।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেকটা কেঁচো খুঁড়তে কেউটের খবর বেড়িয়ে আসে। অভিযুক্ত এই প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রি শিক্ষকদের হয়রানী ছাড়াও নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থ বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য, বিদ্যালয়ের আয়-ব্যায়ের হিসাব নিয়ে ছলচাতুরী, তার অনুগত শিক্ষকদের কমিটিতে সদস্য করা ও তাদের সময়সুযোগ মতো ক্লাস নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া, এনটিএরসির অধিনে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের যোগদানের সময়ে মোটা অংকের অর্থ আদায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা অযুহাতে অর্থ আদায়সহ অভিযোগের পাড়ার গড়ে উঠছে।
এমন কি চাহিদা মোতাবেক টাকা না দিলে তার কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা পায় না পরীক্ষার প্রবেশ পত্র। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের। প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রর নেতৃত্বে দিনের পর দিন ঐতিয্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষাব্যবস্থা চরম দূরবস্থায় পরিনত হচ্ছে। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থী কমতে শুরু করছে স্কুলটির। অবাক করার বিষয় তার আশীর্বাদপুষ্ট শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে না আসলেও তাদের বেতন নিয়মিত ব্যাংকে চলে যায়।
সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রীর এ দুর্নীতির কাছে অসহায় হয়ে পরেছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন জেহাদ ঘোষণা করেছে তখন প্রধান শিক্ষকের বহাল তবিয়তে থাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তার খুঁটির জোর কোথায়?
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রি বলেন,‘আপনি স্কুলে আসেন সামনা সামনি বলি। সে স্কুলের নিয়ম কানুন মানে না। তাই তাকে শোকজ করা হয়েছে। তবে তিনি যে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ন মিথ্যা।’
এ বিষয়ে স্কুলের সভাপতি ও কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান (চঞ্চল) বলেন, শেকজের বিষয়ে আমি জেনেছি। তবে ঐ শিক্ষক পাল্টা ভাবে আমার কাছে কোন অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিচালনা পরিষদঃ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আরিফুল ইসলাম সাব্বির নির্বাহী সম্পাদক: রেদোয়ান হাসান বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ রফিক কমপ্লেক্স (২য় তলা), ৬৪/১, শিমুলতলা, সিআরপি রোড, সাভার, ঢাকা-১৩৪০ ফোন: ০১৫৭৬৪৬২৭০১ ই-মেইল: ajkerpost.news@gmail.com
Copyright © 2026 Ajkerpost. All rights reserved.