বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

সূর্যমুখীর হাসিতে খুশি কৃষক

গোলাম মাওলা,কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে /

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়া গ্রামে গেলে দেখা মিলবে বিস্তীর্ণ জমিতে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখী। গাছে এরই মধ্যে ফুটেছে ফুল। দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী দেখতে সকাল বিকেল ভির করছেন অনেকে।এখানে এক একর ২০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন এলাকার আদর্শ কৃষক (লিড ফার্মার) সাজ্জাদ হোসেন জসিম।তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ১২০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেন তিনি। লাভ হওয়ায় গত তিন বছর ধরে সূর্যমুখীর চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন তিনি। সে এখন এলাকার আদর্শ কৃষক (লিড ফার্মার)। তার দেখা দেখিতে এলাকার আরো ৫০জন কৃষক এ বছর সূর্যমুখীর চাষ করেছেন।বাঁশবুনিয়া গ্রামের কৃষক কেশব সমদ্দার জানান, গত বছর সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন ২০ শতাংশ জমিতে। এ বছর করেছেন ৫০ শতাংশ জমিতে। তিনি জানান, কৃষি অফিস থেকে এ বছর বিনামুল্যে বীজ সার পেয়েছেন। তাছাড়া গত বছর তার লাভও হয়েছিল ভালো।এ গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম, মনমথ হালদার, নুপুর রানী কেশব সমদ্দার, সীমা রানী ও বিনয় ভুষন জানান, তারা ছাড়াও এলাকার ৫০ জন কৃষক এ বছর সূর্যমুখী চাষ করেছেন ১৫ হেক্টর জমিতে। সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের এমন আগ্রহের কারণ সময় ও ব্যয়ে অধিক লাভ। সূর্যমুখী বীজ থেকে উৎপাদিত ভোজ্যতেলের ভালো দাম থাকায় চাষাবাদ খরচের কয়েক গুণ লাভ হচ্ছে।এ ছাড়া সরকার ভোজ্যতেলের বাজারে ভারসাম্য আনতে সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষককে বিনামুল্যে বীজ ও সার দিচ্ছে। সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনেও হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। অনেকে পতিত জমিতেও চাষ করছেন সূর্যমুখী।সোমবার সরেজমিনে বাঁশবুনিয়া মাঠে গিয়ে দেখা যায়, প্রচন্ড তাপের মধ্যেও সূর্যমুখীর পরিচর্যা করছেন কয়েকজন কৃষক। গাছে বড় আকৃতির ফুল এসেছে, বাতাসে দুলছে সেই ফুল। দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী দেখতে ভির করছেন অনেকে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। কৃষকরা জানান, প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অনেক লোক আসেন ছবি তুলতে।আদর্শ কৃষক (লিড ফার্মার) সাজ্জাদ হোসেন জসিম জানান, প্রথম বছর ৫০ শতাংশ জমিতে চাষ করেন, ফলন ভালো হওয়ায় গত বছর ৭০ শতাংশ এবং এ বছর ১২০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন।বাঁশবুনিয়া ব্লকের দায়িত্বে উপসহকারি কৃষি অফিসার মো.হাসিবুর রহমান জানান, কৃষকরা জানুয়ারীর মাঝামাঝিতে সৃর্যমুখীর বীজ বপন করেন। এক একর জমির জন্য এক কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। ১১০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে তেল উৎপাদনের জন্য সূর্যমুখীর বীজ সংগ্রহ করা হবে। এক একর জমিতে ফলন হয় ৮শ কেজি, এ থেকে তেল পাওয়া যায় ৩৫০ লিটার । এক একর জমিতে চাষাবাদে ব্যয় হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রতি একরে লাভ হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবীদ মো.ইব্রাহিম জানান, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় প্লট ভিত্তিক একক প্রদশর্নীতে উপজেলা বাঁশবুনিয়া ব্লকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করেছেন কৃষক। প্রদশর্নীর বাইরে অনেক কৃষক সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তাদেরকেও কৃষি অফিস থেকে বিনামুল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এতে আগ্রহী হচ্ছেন।উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ তানজিলা আহমেদ জানান, ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিনামুল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করায় অনেক কৃষক আগ্রাহী হয়েছেন। উপজেলায় এ বছর অনেক জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD