সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার ৫৩ বছরে কতটা স্বাধীন আমরা!

মুনিয়া রহমান জান্নাত, গবি প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০২৪
  • ১৭৫ বার পড়া হয়েছে / ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট

একাত্তরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ৫৩ বছর পেরিয়েছে। স্বাধীনতা, আমার দেশ, উন্নয়ন-উন্নতি, প্রযুক্তির প্রসার সবকিছুর উর্ধ্বে সর্বদাই একটা প্রশ্ন থেকে যায়,’স্বাধীন বাংলায় আমরা ঠিক কতটা স্বাধীন?’ এ নিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের অভিমত তুলে ধরেছেন মুনিয়া রহমান জান্নাত।

দেশ স্বাধীন হলেও কতিপয় গোষ্ঠীর কাছে আমরা জিম্মি

স্বাধীনতার ৫৩ বছরে এসে বাংলাদেশ শিক্ষায়, দারিদ্র্য বিমোচনে, মরণব্যাধি দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ও অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে । সব ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক কিছু উন্নয়ন ভেসে উঠলেও যখন প্রশ্ন আসে আমরা ঠিক কতটা স্বাধীন, তাহলে সত্যিই ভেবে দেখতে হয় আমরা আসলে কতটা স্বাধীন আর আমাদের এই পরাধীনতাই বা কাদের কাছে। আমরা শিক্ষাখাতে এগিয়েছি, কিন্তু শিক্ষিত হতে পেরেছি কতুটুকু? আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি, তবে সেটা জনগণ ঠিক কোন মাত্রা পর্যন্তই বা সঠিকভাবে ব্যাবহার করতে পারছে? বর্তমান সময়ে দেশের দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। যেভাবে লাগামহীন মাত্রায় পণ্যের মূল্য বাড়ছে, তাতে এটা পরিষ্কার যে, আমরা বাজারের এই সিন্ডিকেটের কাছে পরাধীন। কথা উঠতে পারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির। এখানে সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে, জীবনযাত্রার মান বাড়াতে হবে। বর্তমানে দেশের কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সঠিক রাজনীতির চর্চা করতে না পারায় দেশ রক্ষার কারিগরও কমে আসছে। দেশের এই অসৎ পরিচালক, যারা যুবসমাজকে দিশেহারা করে দিচ্ছে, আমরা তাদের কাছে পরাধীন। নানা পিছুটান, ষড়যন্ত্র সত্বেও স্বাধীনতা পরবর্তী পাঁচ দশকে বাঙালির অর্জন বিস্ময় জাগিয়েছে সারা বিশ্বে। দেশের বিভিন্ন সামগ্রিক সমৃদ্ধিতে তেমন কোনো হতাশা না থাকলেও স্বাধীন বাংলার বুকে আজও রয়েছে সাম্প্রদায়িক শক্তির মাথাচাড়া। পাশাপাশি ঘুষ-দুর্নীতিসহ দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই দেশের সঠিক জনশক্তি গঠনে একটি পরাধীনতা মুক্ত জাতিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত, শোষণ-বঞ্ছনা মুক্ত, শক্তিশালী একটি সমাজ।

মোঃ মেরাজ হোসেন
১ম বর্ষ, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ।

স্বাধীন হয়েও পাইনি সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার

স্বাধীনতা, সে তো সবাই চায়। কিন্তু আসলে কি স্বাধীনতা সবার হয়? বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে রয়েছে এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস।এক সাগর রক্ত ও লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা।সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই যাদের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আমরা আজ স্বাধীনতার 53 টি বছর পার করতে চলেছি, তবুও যেন বন্দী জীবন যাপন করছি আমরা। আমরা অন্য রাষ্ট্র থেকে যুদ্ধ করে দেশ কে মুক্ত করলেও নিজের দেশে হয়েছি আমরা বন্দী ।আমরা স্বাধীন একটি রাষ্ট্র পেয়েছি বটে, কিন্তু পাইনি আমাদের সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার। আমরা পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি ফেলেও এখনও নিজ দেশেই যেন বন্দী।আমরা কেউ স্বাধীন নই, না নিজের কাছে, না পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের কাছে। যখন আমরা সব কথা প্রকাশ করতে পারি না, যখন আমরা সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারি না, যখন আমরা নিজের সব ভুল প্রকাশ্যে বলতে পারি না, নিজের অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তুলতে পারি না, তখন আমরা পরাধীন। স্বাধীনতা মানে পরাধীনতার আশ্রয় থেকে মুক্তি, কিন্তু আমরা সেই পরাধীনতার আশ্রয় থেকে এখনো মুক্ত হতে পারিনি।

মাহমুদুল হাসান
২য় বর্ষ, ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস অনুষদ।

এখনো স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি

তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত সশস্ত্র সংগ্রাম ও বিপ্লবের মাধ্যমে বাঙালী জাতি তাদের জাতীয়তাবাদের জানান দিয়েছিলো। পৃথিবীর বুকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য স্বাধীনতা ছিল অপরিহার্য শর্ত। আমরা স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি ঠিকই কিন্তু আমরা এখনও ব্যক্তি স্বাধীনতা, ন্যায়,আইনের শাসন, জননিরাপত্তা কিছুই নিশ্চিত করতে পারি নি যেটার মূল কারন আমরা জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হই নি। একদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে উন্নয়নের ফাঁকা বুলি শোনানো হচ্ছে অন্যদিকে জনগন অনাহারে দিন পার করছে যেটা কখনোই স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিলো না। জনগনের হাহাকারই বলে দিচ্ছে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে এসেও আমরা স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি নি।

আল মাহমুদ
১ম বর্ষ, বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ।

হয়তো একদিন স্বাধীনতার মানে ভুলে যাবো

স্বাধীন দেশে আজ আমরা কতটা স্বাধীন? এই প্রশ্নটি আজও বারবার উঠে আসে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা থাকলেও, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ত্রুটি, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো সমস্যা আমাদের স্বাধীনতার বাস্তবায়নকে ব্যাহত করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা অনেক পিছিয়ে। আইনের চোখে সকলের সমতা এখনও বিদূরের ব্যাপার। এখন আমরা আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা যায়গাতেই পরাধীন । যার ক্ষমতা আছে সে তার ক্ষমতার অপব্যাবহার করে আমাদের আজ স্বাধীন থাকতে দিচ্ছে না । পরিস্থিতির চাপে হয়তো স্বাধীনতার মানেটা আসলে কি তা কিছুদিন পরে আমরা ভুলেও যাব। স্বাধীনতা কেবল রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীনতা একটি দৃঢ়তা নয়, বরং এটি একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া, একটি সামাজিক মূলধারা যা প্রতিটি দিনে পরিবর্তন হতে থাকে। স্বাধীনতা মানে মাত্র রাজনৈতিক মুক্তি নয়, বরং এটি সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির মানবিক ও আধুনিক অধিকার ও সামাজিক সম্প্রীতির মধ্যে একটি স্থিতিশীল সম্পর্কের গঠন। স্বাধীনতার ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে যেন প্রতিটি মানুষ তার মন্তব্য ও অধিকারের প্রতি সত্যতা ও সম্মান বজায় রাখতে পারে, যাতে সামাজিক ন্যায় এবং ভৌগোলিক সমানতা সাধারণ মানুষের জন্যে অর্জনযোগ্য হোক। একজন সত্যিকারের স্বাধীন ব্যক্তি হলে সে পরিবেশে সমতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার প্রতি সচেতন থাকে এবং প্রতিটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাবস্থার বিনিময়ে অংশগ্রহণ করে। এই সচেতনতা এবং সম্পর্কের দৃঢ়তা প্রতিটি দেশের স্বাধীনতার সত্যিক প্রতীক।

আরমান আহমেদ
৩য় বর্ষ, ফার্মেসী বিভাগ।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD