
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক বিরাজ করছে তাঁর শৈশবের শহর দিনাজপুরে। এই জেলার বালুবাড়ি এলাকার ‘তৈয়বা ভিলা’তেই কেটেছে তাঁর শিশু ও কৈশোরের সোনালী দিনগুলো। পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন আদরের ‘পুতুল’।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দেশনেত্রীর মৃত্যুর খবর দিনাজপুরে পৌঁছালে স্মৃতিবিজড়িত সেই বাড়ি ও তাঁর প্রিয় বিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
শৈশবের আঙিনা ‘তৈয়বা ভিলা’ পৌর শহরের বালুবাড়ি এলাকায় বেগম জিয়ার মায়ের নামে নামকরণ করা ‘তৈয়বা ভিলা’ বর্তমানে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ভবনের দ্বিতীয় তলায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর বাবা-মায়ের ব্যবহৃত কক্ষগুলো আজও সংরক্ষিত হিসেবে তালাবদ্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের কেয়ারটেকার কারিনা বেওয়া অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আমি উনার বাবা-মাকে দেখাশোনা করেছি। তাঁরা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আজ তাঁর মৃত্যুর সংবাদে মনটা অনেক ভারী হয়ে আছে।”
গর্বিত বিদ্যাপীঠ বেগম খালেদা জিয়া ১৯৫৪ সালে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং ১৯৬০ সালে এখান থেকেই মেট্রিক (এসএসসি) পাস করেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমা ইয়াসমিন বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের গর্ব। তিনি এই স্কুলেরই শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের মাতম চলছে।”
প্রতিবেশীদের স্মৃতিচারণ খালেদা জিয়ার শৈশবের প্রতিবেশী ৭৮ বছর বয়সী মোস্তা হাসানুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “পুতুল আপা আমার চেয়ে দুই-তিন বছরের বড় ছিলেন। আমরা পাশাপাশি বাড়িতে থাকতাম। তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আজ তাঁর চলে যাওয়ার খবর মেনে নেওয়া কঠিন।প্রয়াণের এই মুহূর্তে দিনাজপুরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং ‘দিনাজপুরের মেয়ে’ হিসেবেই হৃদয়ে অমলিন থাকবেন।”
খালেদা জিয়ার খালাতো ভাই আবু তাহের আবু বলেন, “জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি চলে যান। তাঁর মা আমার মায়ের ছোট বোন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”