
গাজীপুরের সাব-রেজিস্ট্রার ওসমান গনী মণ্ডল এখন দুর্নীতির সমার্থক নাম। ঘুষ ছাড়া কোনো দলিল সই করেন না এমন অভিযোগই আজ মুখে মুখে। প্রতিদিন জেলা রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমানকে ২ লাখ টাকা দিয়ে টঙ্গী অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও মুজিবনগর সরকারের ভুয়া কর্মচারীর পরিচয়ে আদালতের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া এই কর্মকর্তা এখন গাজীপুরের কাপাসিয়া ও টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন। স্থানীয় দলিল লেখক থেকে সাধারণ জনগণ সবাই তার ঘুষ বাণিজ্যের শিকার।
বদলির আদেশ পেলেও ঘুষের টাকা খরচ করে পুনরায় কাঙ্ক্ষিত পদে ফিরে আসেন।
একাধিক সূত্র জানায়, জেলা রেজিস্ট্রারের আত্মীয়তার সুযোগে ওসমান গনী নিজের ইচ্ছেমতো অফিস চালান। কালীগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে প্রথমে কাপাসিয়া, পরে টঙ্গী অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে যোগ দেন। রাত ৯টা পর্যন্ত দলিল রেজিস্ট্রি করার নামে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করা তার নিত্যদিনের ককর্মকান্ডে পরিণত হয়েছে।
দলিল লেখক সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “একটা দলিলের ভুল থাকলে সেটাকে অজুহাত করে ১০-১৫ হাজার টাকা না দিলে কাজ করে দেয় না। কথায় কথা বাড়লে হুমকি দেন, অফিস থেকে বের করে দেওয়ার।”
আনোয়ার হোসেন নামে এক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাড়ির জমির দলিলের শ্রেণি পরিবর্তন করতে গিয়েছিলাম। নিয়মমাফিক ফি জমা দিয়েও তিন সপ্তাহ অফিসে ঘুরেছি। পরে এক কর্মচারীর কাছে শুনি, ‘উপরের স্যারকে’ কিছু দিতে হবে। না দিলে দলিল ঝুলে থাকবে।”
এক প্রভাবশালী দলিল লেখক বলেন, “কাউকে পছন্দ না হলে সরাসরি অফিস থেকে বের করে দেয়। অনেক সময় দলিল বাতিল করে দেয় শুধু একটাই কারণ ‘টাকা দেওয়া হয়নি’। এই অফিসে এখন আইন না, চলে টাকার নিয়ম।”
অভিযোগের পাহাড় ও সম্পদের সাম্রাজ্য
দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়ে ওসমান গনীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার প্রভাব অটুট। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ঢাকার উত্তরা, টঙ্গী, ধনবাড়ী, আশুলিয়া, ধানমণ্ডি, পূর্বাচল ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে রয়েছে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট।
একাধিক দলিল লেখক জানান, তার অশালীন আর কর্তৃত্ববাদী আচরণে তারা চরম অপমানের শিকার হন। ঘুষ না দিলে দলিল মারেন না এমন অভিযোগ নতুন নয়, প্রতিদিনের বাস্তবতা বলে জানায় স্থানীয় সূত্র।
এ বিষয়ে ওসমান গনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “রাত ৯টা পর্যন্ত দলিল করবোই। প্রতিদিন জেলা রেজিস্ট্রারকে ২ লাখ টাকা দেই, পার্টটাইম অফিস করছি। কে কী বললো সেটার চেয়ে বড় বিষয় আমি কাজ চালিয়ে যাবো।”
আরএইচ/ওএফ