
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ফেলে গেলেন শোকাবহ দেশ, স্তব্ধ রাজনৈতিক অঙ্গন এবং এক দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস।
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া কিছুদিন আগে ফুসফুসে সংক্রমণজনিত তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথমদিকে তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দ্রুত বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কেবিন থেকে স্থানান্তর করা হয় করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)।
চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ফুসফুসের সংক্রমণের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে থাকা কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিস–সংক্রান্ত জটিলতাগুলো আরও জটিল আকার ধারণ করে। একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। ফলে সবকিছু মিলিয়ে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিল। তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রতিটি ক্ষুদ্র পরিবর্তন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। ডা. জুবাইদা রহমান নিজেও মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য হিসেবে চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সার্বক্ষণিক ছিলেন শাশুড়ির পাশে।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। তাঁর প্রস্থান একটি যুগের অবসান—এক দীর্ঘ সংগ্রামী পথচলার পূর্ণ বিরতি।