শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

সাভারে শ্রমিক ছাটাই নির্যাতন,মামলা-হামলা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার মোরশেদ আলী মারুফ
  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০
  • ৮৩৬ বার পড়া হয়েছে / ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট

সাভার ও আশুলিয়ায় বিভিন্ন কারখানায় অব্যাহতভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করে বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট এর যৌথ উদ্যোগে।

আজ শুক্রবার (১২ জুন,২০২০ইং) বেলা ১১টায় সাভার বাস স্ট্যান্ড এলাকার রানা প্লাজার সামনে ঢ‍াকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ মানববন্ধন করেন তারা।
এসময় শ্রমিকরা জানায়, করোনাকে পু‍ঁজি করে অনেক পোশাক কারখানার মালিক বিনা কারণে অন্যায় ভাবে শ্রমিকদের ছাটাই করছে। সেই সাথে মালিকরা শ্রমিকদের বেতন ভাতাও পরিশোধ করছে না। অন্যসব কারখানার মত আশুলিয়ার রেজা ফ্যাশনস লিঃ এ তিন শতাধিক, মেডলার এ্যাপারেলস লিঃ এ ২৪৫ জন, স্টারলিং ক্রিয়েশন এ দুই শতাধিক ,ভিনটেজ গার্মেন্টস এ ৪০ জন ও শফিপুরের ময়েজউদ্দিন টেক্সটাইল এ দুই শতাধিক শ্রমিক ছাটাই হয়েছে কোন পাওনা না দিয়ে। এমনকি রেজা ফ্যাশন ও মেডলার এ্যাপারেলসে প্রায় ৭/৮ শত শ্রমিকদের নামে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে শ্রমিকদেরকে হয়রানিও করছে কোম্পানী কতৃপক্ষ। তাই অবিলম্বে শ্রমিক ছাটাই বন্ধ করে, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে ছাটাইকৃত শ্রমিকদের চাকুরীতে পুনবর্হাল ও বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবিতে তারা এ মানববন্ধন করছেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতারা জানান, একদিকে করোনার থাবা আর এক দিকে মালিকদের থাবা। আর এর মাঝখানে শ্রমিকদের প্রান অতিষ্ঠ। বেশ কিছু পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে ঈদের আগেই ছাটাই করেছে। আবার ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আবার অব্যাহত ভাবে সম্মিলিত উদ্যোগে শ্রমিক ছাটাইয়ে নেমেছেন মালিকরা। প্রতিদিনই প্রায় প্রতিটি কারখানায়ই কমপক্ষে ১০/২০ জন করে শ্রমিক ছাটাই হচ্ছে। ঈদের পর থেকে এই পর্যন্ত সাভার-আশুলিয়া মিলিয়ে প্রায় ৬/৭ হাজার শ্রমিক ছাটাইয়ের শিকার হয়েছেন।অসুস্থততার অযুহাতে, করোনার অযুহাত সহ বিভিন্ন উছিলায় শ্রমিক ছাটাই করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দফতর গুলোর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া হলেও কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। তাই আজ সেই শ্রমিকদের নিয়ে মাববন্ধনে দাঁড়ানো হয়েছে।

এসময় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমই) এর সভাপতি রুবানা হকের গতকাল (০৪ জুনের) শ্রমিক ছাটাইয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তারা বলেন, রুবানা হকের ঘোষণার পর থেকেই গার্মেন্টসগুলোতে এই ছাটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সময় এমন একটি ঘোষণা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করতে পারে। সেই সাথে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। সব দিক ‍বিবেচনা করে এই ঘোষণার সাথে আমরা একমত প্রকাশ করিনি। এই সময় এই ঘোষণা অযোক্তিক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন ,গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাশ,গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম সহ আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন,আনিসুর রহমান,মোর্শেদ আলী মারুফ,পারভিন আক্তার, দেলোয়ার হোসেন,সাইদুর রহমান,মানিক মিয়া,সাঈদ মিয়া,মিন্ট,শফিউল আলম,শিল্পী আক্তার সহ অনেকেই।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD