সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ১১:০৩ অপরাহ্ন

আরো ভোগাবে বিদ্যুৎ-গ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে /

সহসাই গ্যাস ও বিদ্যুৎখাতে কোনো সুসংবাদ বয়ে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং সামনে বেশ দুঃসংবাদই অপেক্ষা করছে ভোক্তাদের জন্য। বিদ্যুতের সঙ্কট যেমন শিগগিরই কাটবে না তেমনি গ্যাস সঙ্কটও আরো প্রকট রূপ ধারণ করছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো কমছে। যার পরিণতি বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দেশবাসীর এই বিভ্রাটের হাত থেকে কবে মুক্তি পাবে তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিগগিরই কোনো সুসংবাদ আসবে না।উল্লেখ্য, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি গ্যাস কেনা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে বেড়েছে অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার সময় আরো দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে মোট সাত ঘণ্টা বন্ধ রাখতে চাচ্ছে পেট্রোবাংলা।সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।প্রসঙ্গত, জ্বালানি সাশ্রয়ে ও বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলায় গত ১৯ জুলাই থেকে দিনে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তখন থেকেই রাজধানীতে দুই থেকে চার ঘণ্টা এবং ঢাকার বাইরে ছয় থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং করা হয়। তখন বলা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের শেষদিকে লোডশেডিং থাকবে না। তবে সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখের পর থেকে উল্টো লোডশেডিং আরো বেড়ে গেছে। রাজধানী ঢাকায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা ও জেলাগুলোতে ১০ ঘণ্টারও অধিক সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ডিপিডিসি ও ডেসকোকে ৪০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে, যা চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ। গ্যাস সংকটে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে গ্যাসের গড় চাহিদা সাড়ে তিন হাজার এমএমসিএফডি। স্পট মার্কেট থেকে যখন এলএনজি কেনা হতো তখন গড়ে তিন হাজার এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এখন গড়ে ২৬০০ থেকে ২৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস খাতে গড়ে ১০০০ এমএমসিএডি গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে দুই হাজার ছয়শো ৬৬ এমএমসিএফডি।তবে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন গড়ে ৯৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা। গ্যাস দিয়ে ১১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা থাকলেও ৫০০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্ধ থাকা ডিজেলচালিত (ছয়টি) কেন্দ্র দিয়ে উৎপাদন শুরু করায় খরচ বেড়ে গেছে।পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এতোদিন কাতার থেকে গড়ে প্রতি মাসে পাঁচটি করে এলএনজির কার্গো আসত। কিন্তু চলতি অক্টোবর ও আগামী নভেম্বরে আসবে চারটি করে। ফলে জাতীয় গ্রিডে ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ কমে যাবে। গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য আরো দুই ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সিএনজি স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।পিডিবি সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর ঘোড়াশাল, আশুগঞ্জ, হরিপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট বন্ধ রয়েছে।গত শুক্রবার (৭ অক্টোবর) সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ১৩৬০০ মেগাওয়াট, উৎপাদন ১২৪৩৫ মেগাওয়াট আর লোডশেডিং ১১৬৫ মেগাওয়াট। তবে নানা কারণে যে উৎপাদনের কথা বলা হয় তার চেয়ে কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ কম গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। সে হিসাবে যা বলা হয়, তার চেয়ে আরো ২০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়। বাস্তবে ৩০০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র।এ বিষয়ে সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, ‘পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চায়। কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়নি। আগামী মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বৈঠক হতে পারে। শুনছি আরো দুই ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখতে চায় পেট্রোবাংলা। তারা সিদ্ধান্ত নিলে তো আমরা মানতে বাধ্য। কিন্তু সারাদেশে সিএনজি স্টেশনে মাত্র ২ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হয়। এই অল্প পরিমাণ গ্যাস থেকেও সাশ্রয় করে কতটুকু উপকার হবে। গ্যাসে সিএনজি সেক্টর থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি রেভিনিউ পায়।’বৈঠকের পর তারা সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানান তিনি।বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মো. হাতেম বলেন, ‘গ্যাস সংকট অতীতের চেয়ে বেড়েছে। সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিল্প কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ অবস্থা উত্তরণের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, ‘আগে পাঁচটি কার্গো আসত। অক্টোবর আর নভেম্বরে চারটি কার্গো আসবে। এতে এই দুই মাস ১০০ এমএমসিএফডি কমবে। ডিসেম্বর থেকে আবার পাঁচটি করে কার্গো আসবে।’তিনি বলেন, ‘কাতার আমাদের আরো গ্যাস দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের আগে তা সম্ভব না। আর স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম কমছে। তবে তা এখনো আমাদের কেনার মতো অবস্থায় আসেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গড়ে ১০০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সিএনজি স্টেশনগুলো আরো দুই ঘণ্টা বন্ধ রেখে পিক আওয়ারে যাতে সেই গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ চলছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘এক হাজার এমএমসিএফডি গ্যাস দিয়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এটা হলে প্রতিদিন এক ঘণ্টা লোডশেডিং করলেই হয়। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে এক হাজার এমএমসিএফডির কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস দিয়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিজেল এবং ফার্নেস অয়েল দিয়েও সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। সরবরাহ ঘাটতির জন্য উৎপাদন কমানো হয়েছে। এজন্য লোডশেডিং বেড়ে গেছে। জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে আসতে সময় লাগছে।’জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর লোডশেডিং বেড়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এর সাথে জাতীয় গ্রিডের সম্পর্ক নাই। এখন ফুয়েলের সমস্যা। গ্যাস এখন আগের চেয়ে কম পাওয়া যাচ্ছে। এটাই মূল সমস্যা।’তিনি বলেন, ‘জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলো চালু হয়ে যাওয়ার কথা। গ্যাস টারবাইন আগেই চালু হয়েছে, স্টিম টারবাইনগুলো চালু করতে একটু সময় লাগে। দুয়েক দিনের মধ্যেই চালু হয়ে যাওয়ার কথা। কোনোটাই চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়নি।’তিনি বলেন, ‘গ্যাস দিয়ে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্যাপাসিটি ১১২০০ মেগাওয়াট। আমরা ৫১০০-৫২০০-এর বেশি উৎপাদন করতে পারছি না বা ৫০০০-এর কম। অর্ধেকের কম উৎপাদন করতে হচ্ছে। ডিজেলের সব কেন্দ্র চালু হয়েছে, একান্ত প্রয়োজন না হলে চালানো হয় না। শুধু পিক আওয়ারে চালানো হয়। কারণ খরচ অনেক বেশি হয়।’উল্লেখ্য, জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ মার্চ থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এখন আরও দুই ঘণ্টা যোগ হলে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে সাত ঘণ্টা করে।’

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD