মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

জামালপুরে আ. লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ-গুলি বিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে / ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট

জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায় অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় একপক্ষের বিরুদ্ধে গুলি ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সাবেক ইউপি সদস্যের বাড়িতে হামলা ও লুটের অভিযোগও উঠেছে।গতকাল রবিবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত যমুনা সারকারখানায় এলাকায় এ সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো।স্থানীয় সূত্র জানায়, যমুনা সারকারখানায় আধিপত্য বিস্তার ও আমদানিকৃত সারের পরিবহন চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম মানিক গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো।রবিবার রাত ৯টার দিকে রফিকুল ইসলাম সমর্থিত রায়হান কান্দারপাড়া বাজারে হামলার শিকার হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রফিকুল ইসলামের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানার গেটপাড় এলাকায় এলে আশরাফুল আলম মানিক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ একপক্ষের বিরুদ্ধে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম মানিক জানান, রবিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে রফিকুল ইসলাম সমর্থিত রায়হানকে কান্দারপাড়ার কিছু লোক মারধর করে। বিষয়টি আমার লোকজনের উপর দায় চাপিয়ে তারা উত্তেজিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। এসময় রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার কাফকো থেকে যমুনা সারকারখানায় গ্রামসিকো লিমিটেডের মাধ্যমে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করছে। সারগুলো আনলোডের জন্য মেসার্স মাজেদা ট্রেডার্স দায়িত্ব পায়। দায়িত্ব পাওয়ার পরেই প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী আশরাফুল আলম মানিক প্রতি ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় মানিকের লোকজন সম্প্রতি চড়াও হন। এর জেরে রবিবার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে তিনি জানান। তবে গুলিবর্ষণের কথা তিনি অস্বীকার করেন।এদিকে সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের জেরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ উপস্থিতিতে স্থানীয় ক্যাডার মুর্শেদের নির্দেশে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়।এছাড়াও স্থানীয় বুশরা বাণিজ্যিক সংস্থার ম্যানেজার মো. শাহ আলম জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকজন লোকজন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। ভাঙচুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।সরিষাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন, যমুনা সার কারখানা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দুইটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গুলিবর্ষণের অভিযোগটি তিনি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD