বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৭ অপরাহ্ন

সুন্দরবনে ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘ গণনা শুরু জানুয়ারিতে

ডেস্ক রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে /

বাঘ গণনার জন্যে সুন্দরবনে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বনের প্রায় ৮০০ গ্রিডে তা স্থাপন করা হবে। এদিকে সম্প্রতি শুরু হওয়া পায়ের ছাপ দেখে বাঘ নিরূপনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরনের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বনবিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত সময়ের চেয়ে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা যায়, প্রথম ধাপে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘ গণনার জন্যে বসানো হবে ক্যামেরা। গণনার কাজের জন্যে মোট ৮০০ ক্যামেরা বসানোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি গ্রিডে একটি করে ক্যামেরা বসানোর পর তা একটানা ৪০ দিন পর্যন্ত রাখা হবে। আর দ্বিতীয় ধাপে ক্যামেরা বসবে চাদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে। ২০২৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর ওই দুটি রেঞ্জে ক্যামেরা বসিয়ে বাঘ গণনা করবে বনবিভাগ।

বনবিভাগের দেয়া তথ্য মতে, সুন্দরবনে সর্বশেষ বাঘ গণনা হয় ২০১৮ সালে। তখন বনে বাঘের সংখ্যা ছিলো ১১৪ টি। এর আগে ২০১৫ সালের গণনায় বাঘ পাওয়া যায় ১০৬ টি। আর ২০০৪ সালের গণনায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিলো ৪০৪ টি। অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার বনে বাঘের সংখ্যা বেশি হবে বলে ধারণা করছেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নানা কারণে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়তে পারে। এর মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে বনে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘের কোন খাদ্য সংকট নেই। বর্তমানে সুন্দরবনে ২ লাখ ১০ হাজারের বেশি হরিণ রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক অভিযানে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছে। অভায়রণের সংখ্যা গত কয়েক বছওে শতকরা ২৪ ভাগের স্থলে বৃদ্ধি পেয়ে শতকরা ৫২ ভাগ হয়েছে। ২০ হাজার টাকা অনুদান পাওয়ায় সুন্দরবন সংলগ্ন হরিণ শিকার সংখ্যা কমছে এবং তারা হরিণ শিকারে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

এছাড়া পিটিয়ে বাঘ মারার প্রবণতাও কমছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, কেউ বাঘের আক্রমনে মারা গেলে সৃষ্ট ক্ষোভের বসত লোকালয়ে বাস আসলে তাদের পিটিয়ে মারা হয়। কিন্তু বাঘ বিধবাদের জন্য এখন বরাদ্দকৃত অনুদানের অর্থ বাড়িয়ে বর্তমানে ২ লাখের জায়গায় ৩ লাখ করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থদের হিংসা কমছে এবং বাঘ পিটিয়ে মারা থেকে তারা সরে আসছে।

সুন্দরবনের পশ্চিম বনবিভাগের কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলছেন, খুলনা রেঞ্জের কালাবগি ফরেস্ট স্টেশন এলাকা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার পায়ের ছাপ দেখে বাঘ গণনার কাজ শুরু হয়েছে। ক্যামেরা বসিয়ে গণনার কাজ শুরু হবে আগামী ১ জানুয়ারী থেকে। ২০২৪ সালে গণনার চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণায় বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের অধিনে বাঘ গণনার কাজ চলছে। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এই প্রকল্পে। চলতি বছর ২৩ মার্চ অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় গত অক্টোবর মাস থেকে বাঘ গণনার কাজ করার কথা থাকলেও করোনার জন্যে তার বিলম্ব হয়।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD