রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

পুঠিয়াতে নিমিষেই পুড়ে গেল বিধবা নারী ও তিন এতিম মেয়ের স্বপ্ন

আতিকুল ইসলাম, রাজশাহী
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে / ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট

রাজশাহীর পুঠিয়ার শীল মারিয়া ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে আগুনে পুড়লো বিধবা নারীসহ এতিম মেয়ের স্বপ্ন, ঘরবাড়ি ও ফসল। ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম স্বামী মৃত, চঞ্চল প্রাং গাছ থেকে পড়ে মারা যান কিছুদিন পূর্বে । রেহেনা বেগম উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা যায়।আজ মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৮.৩০ঘটিকার দিকে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম স্বামী হারানোর পর থেকে ৩ এতিম কন্যা সন্তান নিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন সংসার। আর সেই সংসার চোখের নিমিষেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। প্রতিবেশীরা অনেক চেষ্টা আর সহায়তা করেও আগুনের সেই লেলিহান শিখাকে থামাতে পারেনি কেউ। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হয়ে, আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।জানা যায় যে, আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মীও আহত হন। ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের হাত থেকে রেহাই পায়নি পবিত্র আল-কুরআনও। সব মিলে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মতো। ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম সেলাই মেশিন দর্জির কাজ করে সংসার চালাতেন। বাড়িতে তিনজন যুবতী মেয়ে রয়েছে। তাদের চিন্তায় যেন আরও বেশি অস্থির হয়ে পড়ছেন মা রেহেনা বেগম। মেয়েদেরকে বিয়ে শাদী দেয়ার জন্য খেয়ে না খেয়ে খুব কষ্ট করে কিছু নগদ টাকা ও সম্পদ জমিয়েছিলেন আর তা মুহূর্তের মধ্যেই পড়ে ছাই হয়ে গেল। ইতোমধ্যেই ভুক্তভোগী ওই নারীর দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, চারিদিকে যেনো কান্নার রোল পড়ে গেছে। কোন সান্ত্বনাই যেনো কাজে আসছে না। কিভাবে সামলিয়ে নিবেন এই ক্ষতি! পিতা হারা তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে সাগরে ডুবন্ত অবস্থায় রয়েছেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভুক্তভোগী ওই পরিবারে।ভুক্তভোগী রেহেনা বেগমের বড় মেয়ে চৈতি খাতুন (২৫)তিনি বলেন, আমার বাসার সবার স্কুল-কলেজের সকল সার্টিফিকেট ও বই খাতা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার বাসায় আর কিছু পুড়ে যাবার মতো অবশিষ্ট নেই। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি।ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম বলেন, আমার জীবনের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি এখন আমার এতিম এই তিন কন্যা সন্তানকে কিভাবে বিয়ে শাদী দেওয়ার ব্যবস্থা করব। জীবনে যা জমিয়েছি তা সব এক মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেল। আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই আমার এই ক্ষতিটুকু পূরণ করে দিয়ে এতিম তিন কন্যা সন্তানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ভুক্তভোগী রেহেনা বেগমের কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, হঠাৎ করে তার বাসায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। তাদের বাড়িতে চিল্লাচিল্লিতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এতে করে আগুন নিভাতে সবাই ব্যর্থ হয়। ততক্ষণে পুড়তে থাকে ভুক্তভোগী রেহেনা বেগমের স্বপ্নগুলো। যতটুকু জীবনে রোজগার করেছেন তার অল্প কিছু খেয়েছেন বাদবাকিটুকু জমিয়েছিলেন তিন মেয়ের জন্য। অথচ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল রেহানার পথে বসা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।এ ব্যাপারে পুঠিয়া ফায়ার হাউস ইন্সপেক্টর আরিফুল ইসলাম জানান, আমরা খবর পেয়ে খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বোঝা গেছে। ঘরের মধ্যে কোনো কিছুই পুড়তে বাকি নেই। সব কিছু পুড়ে গেছে। বাড়িটা একটু ভিতরে হওয়ায় গাড়ি ঢোকাতে পারা যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে জানতে পারি দুর্বৃত্তদের আগুনে পড়েছে বাড়ি। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি বলে এ কর্মকর্তা জানান।ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলটি পরিদর্শন করেছেন পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু।ভুক্তভোগী ঐ নারীকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাদ যাবে না ঘরছাড়া একটি মানুষও। সব শ্রেণী পেশার মানুষেরা ঘরেই বসবাস করবে। তাই আমি এই ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকবো। এবং এলাকাবাসীকেও ভুক্তভোগী ওই পরিবারের পাশে থাকার জন্য আহবান করছি।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD