
প্রফেসর হুমায়ুন কবির যেন এক মানবতার ফেরিওয়ালা। প্রবাসে থেকেও জন্মভূমির মানুষের জন্য তার ভালোবাসার কমতি নেই। প্রতিটি দুর্যোগ মুহূর্ত সামাল দিতে এবং সামাজিক উন্নয়নমুখী কাজে তিনি থাকেন সবার আগে।নিজ এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোয় যেন নেশা। তার অনবরত অনুদানে বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের জনজীবন। তার নিঃস্বার্থ মানবসেবায় উৎফুল্ল এলাকাবাসী।তারা জানান, বিভিন্ন দুর্যোগ মুহূর্ত ছাড়াও এ অঞ্চলের অসহায় মানুষের মাঝে বিভিন্ন সময় নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে আসছেন মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাতদক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী প্রফেসর ডক্টর হুমায়ুন কবির। তিনি নেকমরত বাসীর পাশে সর্বদা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সেচ্ছাসেবী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সব সময় এগিয়ে এসেছেন। শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রচেষ্টায় শীতার্তদের শীতবস্ত্র, গরীব-দুখীদের ঈদ সামগ্রী, দুঃস্থ ও বিধবাদের কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন কিনে দেওয়া, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি সহ নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন তিনি।মানবসেবা ও সমাজসেবার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুলে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন সাধিত করার চেষ্টা করছেন।দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী প্রফেসর ডক্টর হুমায়ুন কবির ১৯৭১ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরত ইউনিয়নের ভবানন্দপুর গ্রামের মো: মজিবুল ইসলামের ঘরে জন্ম নেন।তার দাদা ডাঃ আব্দুর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন।হুমায়ূন কবির ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি বি এ অনার্স ও ১৯৯৩ সালে একই বিভাগ থেকে এম বি এ পাশ করেন তিনি।একই বিষয়ে ২০১৫ সালে সাউথ আফ্রিকার নর্থ-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।এছাড়া তিনি সাউথ আফ্রিকায় কর্পোরেট, গভর্নেন্স, ইথিক্স কোর্স, এসেসর ট্রেনিং কোর্স, রিসার্চ ইথিক্স কোর্স, পোস্ট গ্রাডুয়েট সুপারভিশন কোর্স করেন।শিক্ষাকতার পাশাপাশি গত ২৩ বছরে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৩টি দেশে চাকুরী করেছেন। বর্তমানে তিনি সাউথ আফ্রিকার সোল প্লাকী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।এর আগে তিনি বোতসোয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়, সোয়াজিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, শোয়ানি বিশ্ববিদ্যালয় এন্ড টেকনোলজি, ডারবান বিশ্ববিদ্যালয় এন্ড টেকনোলজিতে চকুরী করেছেন।এছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গবেষণা গ্রন্থে প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবিরের ৩৫ টিরও বেশী গবেষণা মূলকগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। বর্তমানে দু’টি আন্তর্জাতিক মালয়েশিয়া ও ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মূলক প্রকল্পের সাথে জড়িত আছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০জন শিক্ষার্থীর (পিএইচডি মাস্টার্স এবং অনার্স) গবেষণা মূলক বিষয়ে কাজ করছেন। শুধু গবেষণা নয় যুক্ত আছেন ৫টি আন্তর্জাতিক গবেষণা গ্রন্থের এডিটোরিয়াল বোর্ডের সদস্য এবং ৬টি আন্তর্জাতিক গবেষণা গ্রন্থের রিভিউয়ার হিসেবে। এবং পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যলয়ের ২৩টি গবেষণা থিসিস (পিএইচডি এবং মাস্টার্স) আন্তর্জাতিক পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।বিশ্ববিদ্যলয় সিনেট কমিটি, বিশ্ববিদ্যলয় সিনেট হাইয়ার ডিগ্রি কমিটি, বিশ্ববিদ্যলয় সিনেট টিচিং ও লার্নিং কমিটি, বিশ্ববিদ্যলয় একাডেমিক প্লানিং কমিটি, বিশ্ববিদ্যলয় এডভাইজরি কাউন্সিল কমিটি, ফেকাল্টি রিসার্চ কমিটি, ফেকাল্টি পোস্ট গ্রাডুয়েইট কমিটি সহ তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।তিনবার গবেষণা ও ভালো শিক্ষামূলক কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পুরষ্কারও অর্জন করেছেন প্রফেসর ডক্টর হুমায়ুন কবির।এছাড়াও চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য ক্যারিয়ার এ্যাডভান্সমেন্ট ও আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ নিয়ে আলোচনা এবং দিকনির্দেশনা বক্তব্য দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন।প্রফেসর ডক্টর হুমায়ুন কবির প্রবাসে থেকেও নিজ জন্মভূমির জন্য সামাজিক এবং মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ দিন ধরে জড়িত রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাণীশংকৈল উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ৫০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করেছেন। গত বছরে নিজ এলাকায় মুসল্লীদের সুবিধার্থে একটি মসজিদ তৈরি করেদেন।প্রফেসর হুমায়ূন কবির জানান, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোয় আমার লক্ষ্য, তাদের জন্য কিছু করতে পারাটায় আনন্দের। সবসময় যেন দুখী মানুষের পাশে থাকতে পারি সে জন্য সবার দোয়া কামনা করেন।