
রাজধানীর মিরপুর-১ থেকে সাভারের আশুলিয়ার চারাবাগ পর্যন্ত চলাচলকারী লেগুনা পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন এই রুটে প্রায় ১২০টি লেগুনা চলাচল করে। এসব লেগুনায় এলাকাবাসীর পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিরুলিয়া ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতার শ্যালক মনির হোসেন ও বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইসমাইল মোল্লা ‘বিসমিল্লাহ পরিবহন’-এর ব্যানারে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি লেগুনা থেকে চাঁদা আদায় করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রুট থেকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকারও বেশি চাঁদা তোলা হয় এবং মনির হোসেনের সহযোগীরাই এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এছাড়া, একই রুটে চলাচলকারী শাহ আলী পরিবহনের প্রায় ৫০টি গাড়ি থেকেও নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ কারণে পরিবহনের মালিক ও চালকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, চাঁদার বোঝা শেষ পর্যন্ত পরিবহন পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তবে যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের মনির হোসেনের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং শ্রমিক লীগ নেতা তানভির, বিপুল, বাবু ও শাহাদাত মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মনির হোসেন ও তার সহযোগীরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের মতে, খাগান এলাকায় অন্তত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করেন। ঘনঘন চাঁদাবাজি ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কারোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।