
ডায়াবেটিস শুধু বড়দের রোগ নয়, ছোট শিশুরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অনেক সময় বাবা-মা লক্ষণগুলো স্বাভাবিক মনে করায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
১. ঘন ঘন প্রস্রাব:
শিশু আগের তুলনায় বারবার প্রস্রাব করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
২. অতিরিক্ত তৃষ্ণা:
বারবার পানি খাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে তৃষ্ণা পাওয়াও শিশুর রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম লক্ষণ হতে পারে।
৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি:
স্বাভাবিক খেলাধুলা বা দৈনন্দিন কাজের পরও শিশু অতিরিক্ত দুর্বল বা ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
৪. কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া:
খাদ্যাভ্যাসে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও শিশুর ওজন কমতে থাকলে এর পেছনে কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
৫. বয়স বাড়ার পরও বিছানায় প্রস্রাব:
ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বিছানায় প্রস্রাব করা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার পরও নিয়মিত এমনটা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
শিশুর ডায়াবেটিসের পেছনে বংশগত কারণসহ বিভিন্ন শারীরিক কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু মিষ্টি, চকোলেট বা চিনি খাওয়াকে এর একমাত্র কারণ মনে করা ঠিক নয়।
অন্যদিকে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, দীর্ঘ সময় মুঠোফোন বা টেলিভিশন দেখা এবং অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সন্তানকে সুস্থ রাখতে যা করবেন
শিশুকে সুষম খাবার খাওয়ানো, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খেলাধুলা বা শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মুঠোফোন ও টেলিভিশনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর অভ্যাস কমাতে হবে।
তবে বারবার প্রস্রাব, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া বা বয়স বাড়ার পরও বিছানায় প্রস্রাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলে শুধু জীবনযাত্রা পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে রক্তে শর্করার পরীক্ষা করানো উচিত।
শিশুর ডায়াবেটিস দ্রুত শনাক্ত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা শুরু করা সম্ভব। তাই শুধু শিশুটি মিষ্টি খায় কি না, সেটির দিকে না তাকিয়ে তার দৈনন্দিন আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা জরুরি।