
২০২৩ সালের ২৯ জুলাই। ঢাকার প্রবেশমুখ গাবতলীর পিচঢালা তপ্ত রাস্তাটি সেদিন দুপুরের আগেই রূপ নিয়েছিল রণক্ষেত্রে। সেদিনের সেই উত্তাল ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, স্লোগান আর ত্রিমুখী সংঘর্ষের মাঝে এক প্রবীণ রাজনীতিকের নিথর হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ার দৃশ্যটি আজও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় জীবন্ত ও বিষাদময় দলিল।

সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দৃশ্যপট বদলে যায়। ঠিক বিপরীত পাশে এসে কিরিচ-লাঠিসোটা-হাতুড়ি নিয়ে অবস্থান নেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

বেলা সাড়ে ১১টা। পুলিশ যখন আমান উল্লাহ আমানকে স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়, তখন চারপাশ থেকে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের মাঝে শুরু হয় ত্রিমুখী ধস্তাধস্তি। ঠিক সেই হট্টগোলের মাঝে দাঁড়িয়ে আমান উল্লাহ আমান সাফ জানিয়ে দেন তারা রাজপথ থেকে সরবেন না।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চোখের পলকে গাবতলীর সেই রাজপথেই সংজ্ঞাহীন হয়ে লুটিয়ে পড়েন আমান। দেশের একজন শীর্ষ সারির রাজনীতিক নিথর অবস্থায় ধুলোবালির মধ্যে পড়ে রইলেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঐ অবস্থায় একটি জিপে করে আটক করে নিয়ে যান। আমানের আশপাশে থাকা বিএনপির সাধারণ কর্মীদের ওপর নেমে আসে অতর্কিত হামলা। লাঠিসোঁটার আঘাতে রক্তাক্ত হয় তারা। মুহূর্তের মধ্যে রাজপথ রঞ্জিত হয় কর্মীবাহিনীর রক্তে। রক্তাক্ত কর্মীদের যখন পুলিশ টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সেদিন গাবতলীর সেই স্পট থেকেই অন্তত ২০ জন কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

ছবি- জীবন আহমেদ