সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাভারে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত সাভারে জিপার ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ মিষ্টি না খেলেও হতে পারে শিশুর ডায়াবেটিস প্রতারণার মামলায় বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার ঈদে মিলাদুন্নবীতে ন্যায় ও মানবিকতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পাবনায় সাবেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ খালেদা জিয়ার জন্মদিনে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল বিরুলিয়ায় লেগুনা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ভোগান্তিতে যাত্রী-শিক্ষার্থীরা ফিরে দেখা ২০২৩: রাজপথে আমান উল্লাহ আমানের লুটিয়ে পড়া ও একটি রক্তাক্ত দিন পাইপ দিয়ে গোলের লড়াই: সাভারে ‘ফুঁ-বল’ উন্মাদনা

ঝিকরগাছার অদম্য মেয়ে তামান্না আক্তার নুরার জীবনের জানা-অজানা গল্প

জহিরুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০২৩
  • ১৬৫ বার পড়া হয়েছে /

নারী দিবসের মুল প্রতিপাদ্য হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার নিশ্চিত করা, পুরুষ শাসিত সমাজে নারীকে যথাযথ সম্মান করা। কারও উপর নির্ভরশীল না হয়ে একজন নারী কিভাবে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে,  তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার তামান্না আক্তার নূরা। সমাজে অবহেলিত, নির্যাতিত নারীরা তামান্নাকে দেখে অনুপেরণা খুজতে পারে। শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তামান্না দমে যাননি  নিজের প্রতি এগিয়ে যাওয়ার বিশ্বাস, আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষ তার লক্ষ্য পৌঁছাতে পারে তর জলন্ত উদাহরণ তামান্না আক্তার নুরা। জন্ম থেকে দু’টি হাত, একটি পা নেই তামান্না আক্তার নূরার। তবু থেমে থাকেননি এত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তিনি একটুও দমে যাননি, এক পা দিয়ে লিখে  পি এস সি,  জে এস সি, এস এস সি পরীক্ষাতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-ফাইভ পেয়েছে এই কিশোরী। নিজে স্বাবলম্বী হয়ে সেবা করতে চান দেশ ও সাধারণ জনগণের।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের  রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় তামান্না আক্তার নূরা। জন্ম থেকেই দুটি হাত ও ডান পা নেই। লেখাপড়ার প্রতি  আগ্রহে ছয় বছর বয়সে মায়ের কাছে পায়ের ভেতর কাঠি ও কলম দিয়ে লেখার হাতে খড়ি শুরু হয়। মাত্র দু’মাসের মধ্যে পা দিয়ে লেখা ও ছবি আঁকা রপ্ত করে ফেলেন। বাবা টিউশনি করে সংসার চালালেও তামান্নাকে ভর্তি করে দেন স্কুলে। হুইল চেয়ারে করে প্রতিদিন স্কুলে আনা-নেয়া করতেন নিজেই। এতো প্রতিবন্ধকতার মাঝেও বাবা মার কষ্টের প্রতিদান দিয়েছেন তামান্না। এক পা দিয়ে লিখে পি এস সি, জে এস সি, এস এস সি এবং  এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছে। বর্তমানে স্নাতক সম্মানের জন্য ইংরেজী বিভাগে অধ্যায়নরত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি)। তামান্নার এমন সাফল্যে, তার পিতা-মাতা ও সহপাঠীরা অনেক খুশি।

তামান্না নূরা বলেন, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতো আমিও স্বাবলম্বী হতে চাই । আমি আমার বাবা-মায়ের মুুখ উজ্জ্বল করতে চাই ও এলাকাবাসীর সম্মান বৃৃদ্ধি করবো ইনশাল্লাহ।

তামান্নার পিতা রওশন আলী বলেন, মেয়েকে বার বার বলি শিক্ষার উদ্দেশ্য চাকরী করা না, শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান অর্জন করা। শত কষ্টের মধ্যেও মেয়ের সাফল্যে আমি সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যাই। আপনারা যদি আমার মেয়েকে নিজের সন্তান মনে করে এগিয়ে আসেন তাহলে তামান্না অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD