
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন এক টুকরো উষ্ণতার পরশ পেলেন সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের কয়েকশ অসহায় এবং ছিন্নমূল মানুষ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এই শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের যাদুরচর ও চান্দুলিয়া এলাকায় বিএনপি কর্তৃক এই মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
হেমায়েতপুরের এক বস্তিতে ঠাঁই নেওয়া ৭৫ বছর বয়সী আমেনা বেগমের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত প্রকট। দুই যুগ আগে স্বামী হারিয়েছেন, তিন সন্তান থাকলেও শেষ বয়সে একাকীত্বের ভার বইতে হচ্ছে তাকে। শীতের তীব্রতা যখন তার জীর্ণ কুটিরে হানা দিয়েছিল, তখন এই কম্বলটি তার কাছে এক পরম আশীর্বাদ হয়ে আসে।
চোখের কোণে জমে থাকা জল মুছে স্বস্তির কথা জানিয়ে আমেনা বেগম বলেন, “আমার নিজের সন্তানরা যা করেনি, আজকে এই মানুষগুলো তা করলো। এই কয়দিন একটা ছেঁড়া কম্বল গায়ে দিয়ে অনেক কষ্টে রাত পার করেছি। এই নতুন কম্বলটা পাওয়ায় এখন আর রাতে ঘুমাতে কষ্ট হবে না।” একই স্থানে দেখা গেল ২৬ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী শাবানা খাতুনকে। হাঁটাচলার ক্ষমতা না থাকায় মা বাছিরন বেগমের সাথে হুইলচেয়ারে চড়ে এসেছিলেন তিনি। কম্বল হাতে পেয়ে তৃপ্তির হাসিতে শাবানা বলেন, “হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় প্রতিটা রাত কষ্টে কাটে। এই কম্বলটা পাওয়ার পর মনে হচ্ছে অন্তত বাকি রাতগুলো একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারব।”

সেখানে উপস্থিত সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আক্কাস মিয়ার জীর্ণ শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছিল হিমেল হাওয়া। কম্বলটি হাতে পেয়ে জলছল চোখে তিনি বলেন, “দুনিয়ায় গরিবের কোনো আপন নাই। আইজ এই কম্বলটা পাইয়া মনে হইতাছে একটা আশ্রয় পাইলাম। আল্লায় খালেদা জিয়ারে জান্নাত নসিব করুক।”
ঢাকা জেলা যুবদল নেতা ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওনের উদ্যোগে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জামাল উদ্দিন সরকার ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের হাতে এই উপহার তুলে দেন।
আয়োজক ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই করেছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় আমাদের এই সামান্য প্রয়াস। কোনো শীতার্ত মানুষ যেন শীতে কষ্ট না পায়, সেই অঙ্গীকার নিয়ে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”