সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাবনায় সাবেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ খালেদা জিয়ার জন্মদিনে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল বিরুলিয়ায় লেগুনা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ভোগান্তিতে যাত্রী-শিক্ষার্থীরা ফিরে দেখা ২০২৩: রাজপথে আমান উল্লাহ আমানের লুটিয়ে পড়া ও একটি রক্তাক্ত দিন পাইপ দিয়ে গোলের লড়াই: সাভারে ‘ফুঁ-বল’ উন্মাদনা আকিজ পাইপসের ‘ফুঁ-বল চ্যাম্পিয়নশিপ’ ঘিরে নতুন উন্মাদনা সাভারে জমি দখল দিতে টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে মানববন্ধন, ভিডিও ভাইরাল সাভারে সোলার লাইট উদ্বোধন ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সিংগাইরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হেমায়েতপুরে রাত জেগে আবর্জনায় ভরা ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করলো বিএনপি নেতা-কর্মীরা

পাবনায় সাবেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে /

পাবনার ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদধারী জহুরুল ইসলাম বকুলের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার ও তদবির-বাণিজ্যসহ নানা দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় নেতারা।

এ নিয়ে উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছে লিখিত আবেদন করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগের পক্ষে প্রমাণপত্র সংযুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে গঠিত পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটিতে জহুরুল ইসলাম বকুলকে ৪৯ নম্বর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিষয়ে নজরদারি সংক্রান্ত তদন্তের সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই সময়ে বকুলের আপন ভাতিজা রাকিবুল হাসান প্রান্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পদে এবং তার আপন মামা জলিল মির্জা কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তবে এসব দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।লিখিত আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ সময়েও কাউন্সিল করতে না পারায় ২০২৫ সালের ১০ জুন পাবনা জেলা বিএনপি জহুরুল ইসলাম বকুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় বকুল ও সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল হাকিম খান দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থেকেও উপজেলা বিএনপির ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বসে সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের কাজে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ ভাগাভাগির মাধ্যমে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। পাশাপাশি থানায় তদবির, বিভিন্ন জলাশয় ও খাল-বিলের বন্দোবস্ত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে মনোনয়ন এবং সরকারি সম্পত্তির মাটি কাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অনুমতি বা প্রভাবের প্রয়োজন হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা এবং পরবর্তীতে মামলা সংক্রান্ত তদবিরের মাধ্যমে দলকে বিতর্কিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে জহুরুল ইসলাম বকুলের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, ২০১৯ সালে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল। ২০০৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ‘আম’ প্রতীকে নির্বাচন এবং ২০০৩ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগও করা হয়েছে। এছাড়া ১৯৮৭ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদানের বিষয়টিও তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে একে একে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদ দখল করেছেন—ডেমরা হাজী জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, আইনগঞ্জ মাদ্রাসা সভাপতি, আরকন্দা জোহরা জব্বার দাখিল মাদ্রাসা সভাপতি এবং পু্ংগলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি।”এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদবিধারী এক নেতা বলেন, “দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চললেও ৫ আগস্টের পর হঠাৎ ক্যাডার বাহিনী গড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ নিরীহ সাধারণ মানুষকে হামলা মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন। দখলে নেন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, পুকুর ও জমি। নিয়মিত করে চলেছেন সালিশ বাণিজ্য। দোকানপাটসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজি করছেন।

তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে তটস্থ স্বয়ং স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও। ফলে মুখ খুলতে সাহস পান না অন্যান্য ভুক্তভোগীরা। এমনকি তাদের হাত থেকে বাদ যাননি গণমাধ্যমকর্মীরাও। সত্যের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করলেই আসে জীবন-মৃত্যুর হুমকি।”

অভিযোগকারীরা এসব বিষয় তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে ফরিদপুর উপজেলা বিএনপিকে কথিত ‘প্রভাবমুক্ত’ করে একটি কার্যকর সাংগঠনিক কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল হোসেন জোয়ার্দার, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহ আলম বিএসসি, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান মাসুদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান জিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য হুমায়ুন কবির মনি, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোঃ ইদ্রিস মাস্টার ও উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম বুলবুলসহ বিভিন্ন কমিটির নেতারা স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জহুরুল ইসলাম বকুলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি প্রতিবেদনের ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগে উল্লেখিত উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল হাকিম খানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,’সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমি একটি অভিযোগের কথা জানতে পেরেছি। সেখানে কিছু কিছু জায়গায় আমার নামও জড়িত করা হয়েছে, যা দেখে আমি অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত।তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার জীবনে কখনো হারাম পথে অর্থ উপার্জন করিনি এবং হারাম খাবার খাইনি। আমার স্ত্রী ২৭তম বিসিএস ক্যাডারের একজন চিকিৎসক ও বিশিষ্ট গাইনি সার্জন। আমার বাবাও একজন ধনাঢ্য কৃষক।ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দীনের আমল থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার বিদায় পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হয়েছে। দিনের পর দিন আমাকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে, পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা হয়েছে।

এমনকি চোখ বেঁধে ক্রসফায়ারের চেষ্টা এবং ঢাকায় এনে গুমও করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ঢাকা রমনা থানার একটি মামলায় আমাকে চালান দেওয়া হয়। আমার ওপর এমন কোনো নির্যাতন নেই যা করা হয়নি—আমার ওপর নির্যাতনের শেষ ছিল না।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘তারপরেও আমি সকলকে অনুরোধ করব—ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। যারা এই অভিযোগ এনেছেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযোগটি তিন স্তরে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। ফরিদপুর উপজেলার দুই নেতার বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন,এবিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি । এমন অভিযোগ অনেকেই করে,সেটা আমরা সত্য মিথ্যা যাচাই করে ব্যবস্থা নেব।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খন্দকার বলেন, আমি এই অভিযোগের বিষয় কিছু এখনো জানতে পারিনি।

আরো পড়ুন

এস এন্ড এফ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Developer Design Host BD