
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়ার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। বাগমারার আফজাল হোসেন নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আদালতে মামলাটি করেন। মামলাটি গ্রহণ করে আদালতের বিচারক বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘আসামিরা মস্তান ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। গত বছর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা জিয়ার লোক পরিচয়ে এলাকাজুড়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন তারা। সম্প্রতি সেনা সদস্যের খড়ের মোকামে এসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পুরো টাকা না পেয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা।
এদিকে মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা সবাই বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানিয়েছেন বাদী। আসামিরা হলেন-বাগমারা গ্রামের আসাদুল ইসলাম, রূহুল আমিন সনি, লাল মোহাম্মদ লাল্টু, রানা আহমেদ, সাব্বির আহমেদ, সেলিম হোসেন ও মেহেদী হাসান রকিসহ আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে রূহুল আমিন সনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিএনপি প্রার্থী জিয়ার ঘনিষ্ঠ ক্যাডার। যদিও রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের প্রার্থী জিয়া জানিয়েছেন, তিনি ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। কারা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তা-ও জানেন না। তবে তিনি দাবি করেন, বাগমারায় তার কোনো সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী নেই।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা বিভিন্ন সময় আফজাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ২৬ নভেম্বর দুপুরে আসামিরা বাদীর খড়ের আড়তে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজির হন। তারপর আফজালকে বলেন, এখানে ব্যবসা করতে হলে তাদের ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আফজাল চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে রূহুল আমিন সনি ধারালো চাকু বের করে আফজালকে তাড়া করেন। এ সময় অন্য আসামিরা বাদীকে ঘিরে ধরেন এবং এলোপাতাড়ি কিলঘুসি, লাথি মারতে থাকেন। আসামি লাল্টু তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাদীকে বেধড়ক মারধর করেন। অন্যরাও মারধর করে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
যাওয়ার সময় আসামিরা বলে যায়, পুরো ৫ লাখ টাকা না দিলে এবার এসে জানে মেরে ফেলা হবে। তারা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে তিনি থানায় মামলা করতে যান। তবে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। বাদীর আইনজীবী শারমিন কানিজ জানান, ‘আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। এরপর মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী ধার্য তারিখে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বাগমারা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, সাবেক সেনা সদস্য আদালতে একটি মামলা করেছেন বলে শুনেছি। তবে আদালতের আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছেনি। আদেশের অনুলিপি পেলে সে অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।