
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এক প্রবাসীর জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে। ইউনিয়নের খন্দকারপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিল্পী আক্তার দালাল বাজার ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ভুক্তভোগী হাজী নুরু মিয়া সৌদি আরব শাখা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ। তিনি একই গ্রামের খন্দকারপুর এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী হাজী নুরু মিয়ার সঙ্গে তার বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী কালু মিয়াদের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে নুরু মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগম ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য বেলাল ও হারুন চৌধুরী এবং স্থানীয় সার্ভেয়ার (আমিন) মো. ফারুকের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের নথিপত্র পর্যালোচনা করে সেখানে একটি আপস-মীমাংসা করা হয়েছিলো এবং সেটি উভয় মেনেও নেয়।
আদালতের ১৪৪ ধারা ও অমান্য করার অভিযোগ: সালিশি মীমাংসার একদিন পরেই বিবাদী কালু মিয়া বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নালিশি ভূমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং কোনো পক্ষ যেন নির্মাণ কাজ না করতে পারে, সে জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে সদর থানার এসআই ইয়াকুব আলী উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কালু মিয়ার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আ’লীগ নেত্রী শিল্পী আক্তার গত কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে বিরোধপূর্ণ জায়গায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করেন।
প্রবাসী হাজী নুরু মিয়া বলেন, “আদালতের আদেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণ করতে বাধা দিতে গেলে এই আওয়ামীলিগের নেত্রী আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি এই বিষয়ে থানায় পুনরায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্পী আক্তার প্রথমে ঘর নির্মাণের কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুর সদর থানার এসআই নুরুল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। নালিশি জমিতে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য বিবাদী পক্ষকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।”